রাফসান হাসান সোহাগ, শিবপুর প্রতিনিধি: বেলাবোতে নিখোঁজের তিন দিন পর উদ্ধার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা আজিমুল কাদের ভূঁইয়ার হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। মুরগি বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করার লোভ থেকেই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিবি পুলিশ এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত আজিমুল কাদের ভূঁইয়া বেলাবো উপজেলার বাজনাবো ইউনিয়নের বীরবাঘের গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মান্নান ভেন্ডরের ছোট ছেলে। তিনি স্থানীয় ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন।
গত ২৭শে জানুয়ারি, মঙ্গলবার থেকে আজিমুল কাদের ভুইয়া রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। নিখোঁজের কয়েকদিন পর নাগেরবাজার এলাকায় অবস্থিত তার নিজস্ব পোল্ট্রি ফার্মের পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজিমুল কাদের ভুইয়ার পোল্ট্রি ব্যবসায়িক লেনদেন এবং মুরগি বিক্রির একটি বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করে তার পোল্ট্রি ফার্মে থাকা দুই কর্মচারি । ওই টাকা হাতিয়ে নিতেই তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ ও নৃশংসভাবে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ডিবি পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেফতার
আজিমুল কাদের ভুইয়া নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধারের পর ডিবি পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ও সহায়তাকারী মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজিমুল কাদের ভুইয়া একজন শান্ত ও পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। পোল্ট্রি ফার্ম চালিয়ে তিনি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু লোভী খুনিরা সামান্য কিছু টাকার জন্য তাকে এভাবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিল।” স্থানীয় এক শোকার্ত বাসিন্দা।
বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও উদীয়মান এই নেতার অকাল মৃত্যুতে বাজনাবো ইউনিয়নসহ পুরো বেলাবো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।